শেয়ার
করুন

ওয়েবসাইটি শেয়ার করুন

রক্ত ও রক্তের উপাদান – মানবদেহের জীবনধারার মূল ভিত্তি

July 16

রক্ত ও রক্তের উপাদান – মানবদেহের জীবনধারার মূল ভিত্তি

মানবদেহে প্রতিনিয়ত অক্সিজেন, পুষ্টি, হরমোন এবং বিভিন্ন প্রয়োজনীয় উপাদান এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পৌঁছে দেওয়ার কাজ করে রক্ত। এটি শুধু পরিবহন মাধ্যম নয়, বরং রোগ প্রতিরোধ, ক্ষতস্থান নিরাময় এবং দেহের অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য বজায় রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
রক্ত হলো এক ধরনের তরল যোজক কলা (Fluid Connective Tissue), যা রক্তনালির মাধ্যমে সারা দেহে প্রবাহিত হয়। একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দেহে গড়ে ৫–৬ লিটার রক্ত থাকে।

রক্ত মূলত দুটি অংশ নিয়ে গঠিত—
১. প্লাজমা (Plasma): প্লাজমা হলো রক্তের তরল অংশ, যা মোট রক্তের প্রায় ৫৫%। এতে পানি, প্রোটিন, খনিজ লবণ, গ্লুকোজ, হরমোন এবং বিভিন্ন বর্জ্য পদার্থ দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে।
কাজ:
পুষ্টি ও হরমোন পরিবহন
দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ
রক্তচাপ ও pH বজায় রাখা

২. রক্তকণিকা (Blood Corpuscles)
রক্তকণিকা তিন ধরনের—

লোহিত রক্তকণিকা (RBC): লোহিত রক্তকণিকায় হিমোগ্লোবিন থাকে, যা ফুসফুস থেকে অক্সিজেন দেহের বিভিন্ন কোষে পৌঁছে দেয় এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড ফুসফুসে ফিরিয়ে আনে।

শ্বেত রক্তকণিকা (WBC): শ্বেত রক্তকণিকা দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার প্রধান অংশ। এটি ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস এবং অন্যান্য রোগজীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই করে।

অণুচক্রিকা (Platelet): অণুচক্রিকার প্রধান কাজ হলো রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করা। কোনো স্থানে আঘাত লাগলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

রক্ত মানবদেহে নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন করে—
অক্সিজেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইড পরিবহন
খাদ্য ও পুষ্টি উপাদান কোষে পৌঁছে দেওয়া
হরমোন পরিবহন
রোগজীবাণুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা
রক্তক্ষরণ বন্ধে সহায়তা করা
দেহের তাপমাত্রা ও অভ্যন্তরীণ পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা

মানুষের রক্ত সাধারণত ABO পদ্ধতি অনুযায়ী চারটি গ্রুপে বিভক্ত—
A, B, AB, O

এছাড়া Rh ফ্যাক্টরের ভিত্তিতে রক্ত Rh ধনাত্মক (Positive) অথবা Rh ঋণাত্মক (Negative) হতে পারে। নিরাপদ রক্ত সঞ্চালনের জন্য রক্তের গ্রুপ মিলিয়ে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। রক্ত মানবদেহের জীবনধারার অন্যতম প্রধান উপাদান। এটি শুধু অক্সিজেন ও পুষ্টি পরিবহনই করে না, বরং রোগ প্রতিরোধ, রক্ত জমাট বাঁধা এবং দেহের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।