July 09
জীববিজ্ঞানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো জিন মিউটেশন (Gene Mutation)। জীবের বৈশিষ্ট্য নির্ধারণে জিনের ভূমিকা অপরিসীম। তবে কখনো কখনো DNA-এর নিউক্লিওটাইড ক্রমে স্থায়ী পরিবর্তন ঘটে, যার ফলে জিনের গঠন বা কার্যকারিতা পরিবর্তিত হয়। এই স্থায়ী পরিবর্তনকেই জিন মিউটেশন বলা হয়। মিউটেশনের ফলে নতুন বৈশিষ্ট্যের উদ্ভব হতে পারে, আবার অনেক ক্ষেত্রে বিভিন্ন বংশগত রোগেরও সৃষ্টি হয়। তাই HSC জীববিজ্ঞানে জিন মিউটেশন একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত।
জিন মিউটেশন স্বাভাবিকভাবেও ঘটতে পারে, আবার বিভিন্ন বাহ্যিক কারণেও হতে পারে। DNA প্রতিলিপি তৈরির সময় ভুল, অতিবেগুনি রশ্মি (UV Ray), এক্স-রে, গামা রশ্মি, বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ এবং কিছু ভাইরাস মিউটেশনের কারণ হতে পারে। এসব কারণ DNA-এর নিউক্লিওটাইড বিন্যাস পরিবর্তন করে, যার ফলে নতুন জিনগত বৈচিত্র্যের সৃষ্টি হয়। জিন মিউটেশন সাধারণত কয়েক ধরনের হয়ে থাকে। Substitution Mutation-এ একটি নিউক্লিওটাইডের পরিবর্তে অন্য একটি নিউক্লিওটাইড যুক্ত হয়। Insertion Mutation-এ অতিরিক্ত নিউক্লিওটাইড যুক্ত হয় এবং Deletion Mutation-এ এক বা একাধিক নিউক্লিওটাইড অপসারণ হয়ে যায়। বিশেষ করে Insertion ও Deletion-এর ফলে Frameshift Mutation ঘটতে পারে, যা সম্পূর্ণ প্রোটিনের গঠন পরিবর্তন করে দিতে পারে।
সব মিউটেশন ক্ষতিকর নয়। কিছু মিউটেশন জীবের জন্য উপকারীও হতে পারে। উপকারী মিউটেশনের মাধ্যমে নতুন বৈশিষ্ট্যের উদ্ভব ঘটে, যা প্রাকৃতিক নির্বাচন (Natural Selection)-এ সহায়তা করে এবং বিবর্তনের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। অন্যদিকে ক্ষতিকর মিউটেশন থ্যালাসেমিয়া, সিকেল সেল অ্যানিমিয়া, হিমোফিলিয়া কিংবা বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
কৃষি ও জীবপ্রযুক্তিতেও মিউটেশনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার রয়েছে। বিজ্ঞানীরা কৃত্রিমভাবে মিউটেশন ঘটিয়ে অধিক ফলনশীল, রোগ-প্রতিরোধী এবং পরিবেশ সহনশীল নতুন জাতের ফসল উদ্ভাবন করেন। একইভাবে গবেষণাগারে বিভিন্ন জিনগত রোগের কারণ নির্ণয় এবং নতুন চিকিৎসা পদ্ধতি উদ্ভাবনের ক্ষেত্রেও জিন মিউটেশন নিয়ে ব্যাপক গবেষণা পরিচালিত হচ্ছে।