শেয়ার
করুন

ওয়েবসাইটি শেয়ার করুন

তিস্তা ব্যারেজ ও তিস্তা সেচ প্রকল্প: বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের কৃষি উন্নয়নের মাইলফলক

June 09

তিস্তা ব্যারেজ ও তিস্তা সেচ প্রকল্প: বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের কৃষি উন্নয়নের মাইলফলক

তিস্তা ব্যারেজ বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের কৃষি ও অর্থনীতির উন্নয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অবকাঠামো। তিস্তা নদীর ওপর নির্মিত এই ব্যারেজকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে দেশের বৃহত্তম সেচ ব্যবস্থা, যা “তিস্তা সেচ প্রকল্প” নামে পরিচিত। কৃষিজমিতে সারা বছর পানি সরবরাহ নিশ্চিত করে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষকের জীবনমান উন্নয়নে এ প্রকল্পের অবদান অনস্বীকার্য।

তিস্তা সেচ প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ১৯৭৯ সালে এবং ১৯৯০ সালে এর নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়। প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য ছিল উত্তরাঞ্চলের শুষ্ক মৌসুমে কৃষিজমিতে সেচের ব্যবস্থা করা এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি করা। এই প্রকল্পের আওতায় নীলফামারী, রংপুর ও দিনাজপুর জেলার প্রায় ৫ লক্ষ ৪০ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা প্রদান করা হয়। ফলে আগে যেখানে কৃষকরা বৃষ্টিনির্ভর চাষাবাদের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন, সেখানে এখন আধুনিক সেচ ব্যবস্থার মাধ্যমে বছরে একাধিক ফসল উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে।

তিস্তা ব্যারেজের মাধ্যমে নদীর পানি নিয়ন্ত্রণ করে বিভিন্ন খাল ও সেচ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কৃষিজমিতে পৌঁছে দেওয়া হয়। এর ফলে ধান, গম, ভুট্টা, আলু এবং বিভিন্ন শাকসবজির উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে কৃষি খাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশেও প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

তবে তিস্তা সেচ প্রকল্প বিভিন্ন চ্যালেঞ্জেরও মুখোমুখি। শুষ্ক মৌসুমে নদীতে পানির প্রবাহ কমে যাওয়া, নদীর তলদেশে পলি জমা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব প্রকল্পটির কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই প্রকল্পটির দীর্ঘমেয়াদি সফলতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, পানি ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং আন্তঃসীমান্ত নদী ব্যবস্থাপনায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ প্রয়োজন।

বর্তমানে তিস্তা সেচ প্রকল্পের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করছে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে তিস্তা ব্যারেজ ও তিস্তা সেচ প্রকল্প ভবিষ্যতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।