May 18
বাংলাদেশে বাঙালি জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বা উপজাতির মানুষ বসবাস করে। সরকারি হিসেবে দেশে প্রায় ৫০টিরও বেশি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী রয়েছে। এদের বসবাস প্রধানত পার্বত্য চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, রাজশাহী, রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চলে। প্রতিটি জনগোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি, পোশাক, খাদ্যাভ্যাস ও সামাজিক রীতি রয়েছে, যা বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে বৈচিত্র্যময় করেছে।
বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য উপজাতির মধ্যে রয়েছে চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, সাঁওতাল, গারো, খাসিয়া ও মণিপুরী। চাকমা জনগোষ্ঠী পার্বত্য চট্টগ্রামের বৃহত্তম ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী এবং তারা মূলত বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী। মারমা জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতিতে মিয়ানমারের প্রভাব লক্ষ করা যায়। ত্রিপুরারা নিজস্ব ভাষায় কথা বলে এবং তাঁতশিল্পে দক্ষ। সাঁওতালরা প্রধানত উত্তরবঙ্গে বসবাস করে এবং কৃষিকাজের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে। অন্যদিকে গারো জনগোষ্ঠীর মানুষেরা ময়মনসিংহ অঞ্চলে বেশি দেখা যায় এবং তাদের সমাজে মাতৃতান্ত্রিক প্রথার প্রচলন রয়েছে।
উপজাতিদের জীবনধারা সাধারণত প্রকৃতিনির্ভর। পার্বত্য অঞ্চলের অনেক জনগোষ্ঠী জুম চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করে। এছাড়া বাঁশ ও কাঠের তৈরি হস্তশিল্প, তাঁতশিল্প ও বনজ সম্পদ সংগ্রহও তাদের আয়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎস। তাদের ঘরবাড়ি সাধারণত বাঁশ, কাঠ ও টিন দিয়ে তৈরি হয়। উপজাতিদের সংস্কৃতি অত্যন্ত সমৃদ্ধ। তাদের নিজস্ব গান, নৃত্য, উৎসব ও পোশাক রয়েছে। চাকমাদের বিজু, মারমাদের সাংগ্রাই এবং ত্রিপুরাদের বৈসুক উৎসব অত্যন্ত জনপ্রিয়। পার্বত্য অঞ্চলে বৈসাবি উৎসব তিনটি জনগোষ্ঠীর সম্মিলিত নববর্ষ উৎসব হিসেবে উদ্যাপিত হয়। এসব উৎসবে নাচ, গান ও ঐতিহ্যবাহী খাবারের আয়োজন করা হয়।
বর্তমানে শিক্ষা ও আধুনিক প্রযুক্তির প্রভাবে উপজাতিদের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এসেছে। অনেকেই এখন উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছে এবং সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন পেশায় যুক্ত হচ্ছে। তবে এখনও কিছু জনগোষ্ঠী দারিদ্র্য, শিক্ষা সংকট ও ভূমি সমস্যার মতো চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। সুতরাং, বাংলাদেশের উপজাতিরা দেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাদের ভাষা, উৎসব ও জীবনধারা বাংলাদেশের বহুসাংস্কৃতিক পরিচয়কে আরও সমৃদ্ধ করেছে। তাই তাদের অধিকার সংরক্ষণ ও সংস্কৃতির বিকাশে সবাইকে সচেতন হওয়া প্রয়োজন।
April 01