শেয়ার
করুন

ওয়েবসাইটি শেয়ার করুন

চকলেটের তৈরি ৫৫ মিটার দীর্ঘ ট্রেন: অ্যান্ড্রু ফারুজিয়ার তৃতীয় গিনেস বিশ্ব রেকর্ড

February 23

চকলেটের তৈরি ৫৫ মিটার দীর্ঘ ট্রেন: অ্যান্ড্রু ফারুজিয়ার তৃতীয় গিনেস বিশ্ব রেকর্ড

কল্পনার জগতে আমরা হয়তো চকলেটের পাহাড়, নদী বা প্রাসাদের কথা ভাবি। কিন্তু সেই কল্পনাকেও বাস্তবে রূপ দিয়েছেন মাল্টার প্রখ্যাত চকলেটশিল্পী Andrew Farrugia। ২ হাজার ৫০০ কেজিরও বেশি খাঁটি বেলজিয়ান চকলেট ব্যবহার করে তিনি তৈরি করেছেন ৫৫ দশমিক ২৭ মিটার দীর্ঘ এক বিশাল ট্রেন যা বর্তমানে বিশ্বের দীর্ঘতম চকলেট ভাস্কর্য হিসেবে স্বীকৃত। এই অনন্য সৃষ্টি আনুষ্ঠানিকভাবে স্থান পেয়েছে Guinness World Records এর পাতায়। এর মাধ্যমে ফারুজিয়া নিজের ঝুলিতে পুরেছেন তৃতীয় গিনেস রেকর্ড।

এটি অ্যান্ড্রু ফারুজিয়ার প্রথম রেকর্ড নয়। বরং নিজের গড়া রেকর্ড নিজেই ভেঙে নতুন ইতিহাস তৈরির এক অনন্য উদাহরণ তিনি। ২০১২ সালে বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে তিনি ৩৪ দশমিক ০৫ মিটার দীর্ঘ একটি চকলেট ট্রেন তৈরি করে প্রথম বিশ্ব রেকর্ড গড়েন। এরপর ২০১৪ সালে বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ভবন Burj Khalifa এর আদলে ১৩ দশমিক ৫২ মিটার উচ্চতার চকলেট ভাস্কর্য নির্মাণ করে আবারও বিশ্বকে চমকে দেন। এবার ৫৫ দশমিক ২৭ মিটার দীর্ঘ ট্রেন বানিয়ে তিনি আগের সব সাফল্য ছাড়িয়ে গেলেন।

এই চকলেট ট্রেন একটি অলিম্পিক সুইমিংপুলের চেয়েও দীর্ঘ। পুরো ভাস্কর্যে রয়েছে একটি শক্তিশালী লোকোমোটিভ, ২২টি সুদৃশ্য বগি। প্রতিটি বগির ওজন প্রায় ১৬০ কেজি। সম্পূর্ণ কাঠামো খাঁটি বেলজিয়ান চকলেট দিয়ে নির্মিত। দৈর্ঘ্য, ওজন ও সূক্ষ্ম কারুকাজ সব মিলিয়ে এটি শুধু একটি খাদ্যদ্রব্য নয়, বরং শিল্প ও প্রকৌশলের এক বিস্ময়কর সংমিশ্রণ। এই বিশাল প্রকল্পের কাজ শুরু হয় আগের বছরের আগস্ট মাসে। নির্মাণপ্রক্রিয়াটি ছিল অত্যন্ত পরিকল্পিত ও ধৈর্যসাপেক্ষ। প্রথম ধাপে মাটি দিয়ে ট্রেনের একটি নিখুঁত প্রোটোটাইপ তৈরি করা হয়। এতে কাঠামোর অনুপাত, নকশা ও ভারসাম্য নির্ধারণ করা হয়। দ্বিতীয় ধাপে মাটির পরিবর্তে ব্যবহার করা হয় খাঁটি বেলজিয়ান চকলেটের বড় বড় ব্লক। শেষ ধাপে অক্টোবর মাস থেকে চকলেটের ব্লকগুলো খোদাই করে পৃথক বগি ও অংশ তৈরি করা হয়। একদল দক্ষ কারিগরের সহায়তায় সব অংশ জোড়া দিয়ে সম্পূর্ণ রূপ দেওয়া হয় ট্রেনটিকে। এই পুরো প্রক্রিয়ায় তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সামান্য তাপমাত্রা পরিবর্তনেও চকলেটের গঠন নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

নান্দনিকতা ও খাদ্যসংস্কৃতির জন্য খ্যাত ইতালির Milan শহরে এক জমকালো প্রদর্শনীর মাধ্যমে এই শিল্পকর্ম বিশ্ববাসীর সামনে উন্মোচিত হয়। প্রদর্শনীতে দর্শনার্থীরা বিস্মিত হয়ে প্রত্যক্ষ করেন চকলেট দিয়ে তৈরি এত বিশাল ও বাস্তবধর্মী এক ট্রেন। অ্যান্ড্রু ফারুজিয়া মাল্টার ইনস্টিটিউট অব ট্যুরিজম স্টাডিজের একজন জ্যেষ্ঠ প্রভাষক। প্রায় ৩০ বছর ধরে তিনি রন্ধনশিল্প ও চকলেট নির্মাণের শিক্ষা দিয়ে আসছেন। তাঁর কাজ প্রমাণ করে যে চকলেট শুধু খাদ্য নয় এটি সৃজনশীলতার এক অনন্য মাধ্যম। ৫৫ দশমিক ২৭ মিটার দীর্ঘ চকলেট ট্রেন শুধু একটি বিশ্ব রেকর্ড নয়; এটি অধ্যবসায়, দক্ষতা ও শিল্পসত্তার এক অসাধারণ উদাহরণ। অ্যান্ড্রু ফারুজিয়া আবারও দেখিয়ে দিলেন কল্পনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে প্রয়োজন সৃজনশীলতা, পরিকল্পনা ও অদম্য ইচ্ছাশক্তি। চকলেটের এই ট্রেন ভবিষ্যতেও শিল্প ও খাদ্যভিত্তিক ভাস্কর্যের জগতে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।