April 15
কানাডার মূলধারার রাজনীতিতে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডলি বেগম। ১৩ এপ্রিল ২০২৬ অনুষ্ঠিত ফেডারেল উপনির্বাচনে তিনি স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট আসন থেকে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে প্রথমবারের মতো কানাডার পার্লামেন্টের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি লিবারেল পার্টি অফ কানাডা এর প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং ডায়ানা ফিলিপোভাকে বড় ব্যবধানে পরাজিত করেন। নির্বাচনে ডলি বেগম ২০১১৪ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন, যেখানে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী পান মাত্র ৫৩০০ ভোট। এই বিজয়ের মাধ্যমে তিনি বিল ব্লেয়ারের এর স্থলাভিষিক্ত হন। এর আগে ডলি বেগম অন্টারিও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং অন্টারিও প্রাদেশিক পরিষদের উপনেতা ছিলেন। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি প্রাদেশিক পদ থেকে পদত্যাগ করে ফেডারেল রাজনীতিতে যোগ দেন, যা তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।
ডলি বেগম ১৯৮৯ সালে বাংলাদেশের মৌলভীবাজার জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবে পরিবারসহ তিনি টরন্টোতে অভিবাসন করেন। তাঁর বেড়ে ওঠা স্কারবোরো এলাকায়। তিনি ইউনিভার্সিটি অব টরন্টো থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক এবং ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। রাজনীতিতে প্রবেশের আগে তিনি দীর্ঘদিন সামাজিক উন্নয়ন, নারীর অধিকার এবং অভিবাসী সম্প্রদায়ের কল্যাণে কাজ করেছেন। ২০১৮ সালে প্রথমবারের মতো প্রাদেশিক নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি ইতিহাস গড়েন এবং ২০২২ সালে পুনরায় নির্বাচিত হন। তখন তিনি কানাডার কোনো প্রাদেশিক আইনসভায় নির্বাচিত প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রতিনিধি হিসেবে স্বীকৃতি পান।
ডলি বেগমের এই বিজয় শুধু একটি ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য একটি বড় অনুপ্রেরণা। এটি প্রমাণ করে যে দক্ষতা, শিক্ষা এবং সামাজিক কাজের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করা সম্ভব। এই ঘটনাটি বহুসাংস্কৃতিক সমাজে প্রতিনিধিত্বের গুরুত্বও তুলে ধরে। কানাডার মতো দেশে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করে। ডলি বেগমের মতো নেতারা অভিবাসী সম্প্রদায়ের সমস্যা, অধিকার এবং সম্ভাবনা নিয়ে সরাসরি নীতিনির্ধারণ পর্যায়ে কাজ করার সুযোগ পান।
ডলি বেগমের এই ঐতিহাসিক জয় বাংলাদেশ এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য গর্বের বিষয়। এটি শুধু একটি নির্বাচনী ফল নয়, বরং বৈশ্বিক পরিসরে বাংলাদেশিদের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ও সক্ষমতার একটি শক্তিশালী উদাহরণ।