February 09
শিলিগুড়ি করিডোর দক্ষিণ এশিয়ার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক ও কৌশলগত অঞ্চল। এটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের শিলিগুড়ি শহরের আশপাশে অবস্থিত একটি সংকীর্ণ ভূখণ্ড, যা ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আটটি রাজ্যকে সংযুক্ত করেছে। এই করিডোরটির প্রস্থ কোথাও কোথাও মাত্র ২০ থেকে ২৫ কিলোমিটার হওয়ায় একে চিকেনস নেক নামেও অভিহিত করা হয়। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে শিলিগুড়ি করিডোর ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনীতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
শিলিগুড়ি করিডোরের মাধ্যমে আসাম, ত্রিপুরা, মেঘালয়, মিজোরাম, মণিপুর, নাগাল্যান্ড, অরুণাচল প্রদেশ এবং সিকিমের সঙ্গে ভারতের মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগ বজায় থাকে। এই করিডোরটি ভৌগোলিকভাবে বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান এবং চীনের নিকটবর্তী হওয়ায় এর কৌশলগত গুরুত্ব আরও বেড়ে গেছে। সামান্য কোনো বিঘ্ন ঘটলে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে।
ঐতিহাসিকভাবে ব্রিটিশ শাসনামলে এই অঞ্চলের গুরুত্ব বৃদ্ধি পায়, কারণ এটি বাণিজ্য ও প্রশাসনিক যোগাযোগের প্রধান পথ হিসেবে ব্যবহৃত হতো। স্বাধীনতার পর ভারত সরকার শিলিগুড়ি করিডোরকে নিরাপত্তা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের আওতায় বিশেষভাবে গুরুত্ব দেয়। সড়ক, রেলপথ ও সামরিক অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে এই অঞ্চলের কৌশলগত সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে।
বর্তমানে শিলিগুড়ি করিডোর শুধু ভারতের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার কেন্দ্র নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক রাজনীতি, নিরাপত্তা ও বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল হিসেবে বিবেচিত। এই করিডোর ভারতের ভূরাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও আঞ্চলিক সংযোগ রক্ষায় একটি অপরিহার্য ভূমিকা পালন করছে।