শেয়ার
করুন

ওয়েবসাইটি শেয়ার করুন

জাতিসংঘ: গঠন, উদ্দেশ্য ও বৈশ্বিক ভূমিকা

January 21

জাতিসংঘ: গঠন, উদ্দেশ্য ও বৈশ্বিক ভূমিকা

জাতিসংঘ (United Nations- UN) আন্তর্জাতিক বিষয়াবলীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বিশ্বে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং মানবাধিকার সংরক্ষণের লক্ষ্যে ১৯৪৫ সালে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি আধুনিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করছে। ১৯৪৫ সালের ২৪ অক্টোবর জাতিসংঘ আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করে। শুরুতে সদস্য রাষ্ট্র ছিল ৫১টি, বর্তমানে এর সদস্য সংখ্যা ১৯৩টি। বাংলাদেশ ১৯৭৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করে, যা দেশের পররাষ্ট্রনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

জাতিসংঘ সনদের (UN Charter) মাধ্যমে সংস্থার মূল উদ্দেশ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—
আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখা
রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা
মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতা সংরক্ষণ
অর্থনৈতিক, সামাজিক ও মানবিক সমস্যার সমাধানে সহযোগিতা

জাতিসংঘের ছয়টি প্রধান অঙ্গ রয়েছে। এগুলো হলো—
সাধারণ পরিষদ (General Assembly)
নিরাপত্তা পরিষদ (Security Council)
অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (ECOSOC)
আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (ICJ)
সচিবালয় (Secretariat)
ট্রাস্টিশিপ কাউন্সিল (বর্তমানে কার্যত নিষ্ক্রিয়)


এর মধ্যে নিরাপত্তা পরিষদ আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকা পালন করে। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপকভাবে পরিচিত। সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠা, অস্ত্রবিরতি তদারকি ও মানবিক সহায়তা প্রদানে এই মিশনগুলো কাজ করে। বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অন্যতম শীর্ষ অবদানকারী দেশ হিসেবে পরিচিত।বর্তমান বিশ্বে যুদ্ধ, শরণার্থী সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বৈশ্বিক স্বাস্থ্যঝুঁকির মতো সমস্যাগুলো মোকাবিলায় জাতিসংঘ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। যদিও কার্যকারিতা নিয়ে মাঝে মাঝে সমালোচনা হয়, তবুও এটি আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রধান প্ল্যাটফর্ম হিসেবে অপরিহার্য।