January 04
বাংলা ব্যাকরণে কারক একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও পরীক্ষায় বহুল আলোচিত বিষয়। বাক্যে ব্যবহৃত বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়ার সঙ্গে যে সম্পর্ক স্থাপন করে, তাকে কারক বলা হয়। সহজভাবে বলা যায়, কারক নির্দেশ করে। কে কাজটি করছে, কাকে বা কীকে নিয়ে কাজটি হচ্ছে, কোথা থেকে বা কোথায় কাজটি সংঘটিত হচ্ছে ইত্যাদি। কারকের মাধ্যমে বাক্যের অর্থ আরও স্পষ্ট ও সুসংগঠিত হয়। বাংলা ব্যাকরণে সাধারণত ৬ প্রকার কারক দেখা যায়-
কর্তৃকারক: যে ব্যক্তি বা বস্তু কাজটি করে।
উদাহরণ: রাহিম বই পড়ে। (এখানে ‘রাহিম’ কর্তৃকারক)
কর্মকারক: যার ওপর কাজটি পড়ে।
উদাহরণ: রাহিম বই পড়ে। (এখানে ‘বই’ কর্মকারক)
করণকারক: কাজ সম্পাদনের উপায় বা মাধ্যম বোঝায়।
উদাহরণ: সে কলম দিয়ে লেখে। (এখানে ‘কলম দিয়ে’ করণকারক)
সম্প্রদান কারক: যার জন্য কাজটি করা হয়।
উদাহরণ: আমি মাকে ফুল দিলাম। (এখানে ‘মাকে’ সম্প্রদান কারক)
অপাদান কারক
কাজের উৎস বা বিচ্ছেদের স্থান বোঝায়।
উদাহরণ: সে ঢাকা থেকে এসেছে। (এখানে ‘ঢাকা থেকে’ অপাদান কারক)
অধিকরণ কারক: কাজের স্থান বা সময় বোঝায়।
উদাহরণ: সে মাঠে খেলছে। (এখানে ‘মাঠে’ অধিকরণ কারক)
কারকের সঙ্গে সাধারণত কিছু বিভক্তি যুক্ত থাকে, যেমন:
কে, রে (কর্তৃ/কর্ম)
দিয়ে (করণ)
থেকে (অপাদান)
এ, তে (অধিকরণ)
এসব বিভক্তিকে কারকচিহ্ন বলা হয়।
কারক বাংলা ব্যাকরণের একটি ভিত্তিমূলক উপাদান। কারক সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকলে বাক্যের অর্থ বিশ্লেষণ, সঠিক রচনা এবং পরীক্ষার প্রশ্ন সমাধান অনেক সহজ হয়ে যায়।
January 14
January 01
December 23