January 14
বাংলা ব্যাকরণের একটি মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো বচন। ভাষায় কোনো ব্যক্তি, বস্তু বা প্রাণী এক না একাধিক এই সংখ্যাগত ধারণা প্রকাশের জন্য বচনের ব্যবহার করা হয়। সঠিকভাবে বচন প্রয়োগ না করলে বাক্যের অর্থ অস্পষ্ট বা ভুল হয়ে যেতে পারে। তাই বাংলা ভাষা শুদ্ধভাবে লেখার ও বলার ক্ষেত্রে বচন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা অত্যন্ত প্রয়োজন। যে ব্যাকরণিক নিয়মের মাধ্যমে কোনো বিশেষ্য বা সর্বনাম দ্বারা একটি না একাধিক ব্যক্তি বা বস্তুকে বোঝানো হয়, তাকে বচন বলে।
বাংলা ভাষায় বচন মূলত দুই প্রকার:
১. একবচন: যে শব্দ দ্বারা একজন ব্যক্তি, একটি বস্তু বা একটি প্রাণী বোঝায়, তাকে একবচন বলে। উদাহরণ: ছেলে, বই, গাছ, সে, আমি, ইত্যাদি।
২. বহুবচন: যে শব্দ দ্বারা একাধিক ব্যক্তি, বস্তু বা প্রাণী বোঝানো হয়, তাকে বহুবচন বলে। উদাহরণ: ছেলেরা, বইগুলো, গাছগুলি, আমরা, তারা, ইত্যাদি।
বাংলা ভাষায় বহুবচন বিভিন্নভাবে গঠিত হয়।
ক) প্রত্যয় যোগ করে: ছেলে > ছেলেরা, মেয়ে > মেয়েরা, শিক্ষক > শিক্ষকেরা
খ) বিভক্তি বা শব্দাংশ যোগ করে: বই > বইগুলো, ফুল > ফুলগুলি, পাখি > পাখিরা
গ) শব্দ পরিবর্তনের মাধ্যমে: আমি > আমরা, তুমি > তোমরা, সে > তারা
বচনের ব্যবহারগত বৈশিষ্ট্য:
সব বিশেষ্য শব্দের বহুবচন রূপ হয় না। যেমন: দুধ, পানি, বাতাস-- এগুলো সাধারণত একবচন হিসেবেই ব্যবহৃত হয়।
সম্মান বোঝাতে অনেক সময় একবচন অর্থে বহুবচন শব্দ ব্যবহৃত হয়। উদাহরণ: শিক্ষক আজ আসবেন। (এখানে “আসবেন” বহুবচন হলেও শিক্ষক একজন)
বচনের গুরুত্ব:
-বচন ভাষার স্পষ্টতা ও শুদ্ধতার জন্য অপরিহার্য।
-বাক্যের অর্থ পরিষ্কার হয়
-ভাব প্রকাশ নির্ভুল হয়
-লেখার মান উন্নত হয়
-পরীক্ষায় ব্যাকরণগত ভুল কমে
বাংলা ব্যাকরণে বচন একটি সহজ কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নিয়মিত অনুশীলন ও সঠিক প্রয়োগের মাধ্যমে বচন সম্পর্কে দক্ষতা অর্জন করা সম্ভব। বাংলা ভাষাকে শুদ্ধ ও প্রাঞ্জলভাবে ব্যবহার করতে হলে বচনের নিয়ম ভালোভাবে জানা আবশ্যক।
January 04
January 01
December 23