September 25
ব্যস্ত শহুরে জীবনে আমরা খুব কমই আকাশের দিকে তাকাই। উঁচু উঁচু ভবনের ফাঁকে আকাশের দেখা মেলে না বললেই চলে। অথচ কখনো ছাদের ধারে দাঁড়িয়ে হঠাৎ যদি পাখিদের দল বেঁধে আকাশে উড়ে যেতে দেখি, একটি প্রশ্ন আমাদের মনে আসতেই পারে—পাখিরা কেনো সবসময় ইংরেজি বড় হাতের ‘V’ আকারে উড়ে? বিজ্ঞানীরা গবেষণায় দেখেছেন, এর প্রধান কারণ হলো শক্তি সংরক্ষণ ও দীর্ঘ পথ অতিক্রমের সুবিধা। একা উড়ে গেলে বাতাসের চাপ সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে। কিন্তু যখন তারা ‘V’ আকারে উড়ে, তখন সামনের পাখিটি বাতাসের প্রতিরোধ ভেঙে দেয়। ফলে পেছনের পাখিরা সেই বায়ুপ্রবাহ ব্যবহার করে কম শক্তি খরচ করে উড়তে পারে। সামনের পাখির ডানার ঝাপটায় একটি ঘূর্ণি তৈরি হয়, আর পেছনের পাখি সেই ঘূর্ণির ওপর ভেসে চলে। এতে করে প্রতি সারির পাখির শক্তি ব্যয় আগের সারির তুলনায় কম হয়।
‘V’ আকৃতির ভেতরে পাখিদের অবস্থানও এলোমেলো নয়। তারা প্রায় ফিবোনাচ্চি ধারায় উড়েমানে প্রত্যেকে সামনের পাখির থেকে কিছুটা তির্যক বা ওপরে থাকে। এভাবে উড়লে বাতাসের চাপ আরও কমে যায় এবং শরীর মসৃণভাবে ভেসে থাকতে পারে। এছাড়া, সব পাখির ডানার ঝাপটা একে অপরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকে, যা দলগতভাবে উড়তে বাড়তি সুবিধা দেয়। ‘V’ আকৃতির কেন্দ্রে যে পাখিটি থাকে, সেটিই মূল নেতা বা ড্রাইভার। তার পরিশ্রম সবচেয়ে বেশি, কারণ তাকে বাতাসের বাধা প্রথমে ভাঙতে হয়। এজন্য নির্দিষ্ট সময় পরপর নেতৃত্ব বদল হয়। ফলে একেক সময় একেক পাখি সামনে আসে আর অন্যরা বিশ্রাম পায়। এই প্রক্রিয়ায় সবার শক্তি সমানভাবে ব্যয় হয়। এমনকি শেষ সারির পাখিটিও একসময় নেতা হয়ে যায়। দীর্ঘ যাত্রায় পাখিদের সঠিক পথ খুঁজে নেওয়ারও দরকার হয়। গবেষকরা বলেন, রাতের আকাশে নেতৃত্বে থাকা পাখি নক্ষত্র দেখে পথ ঠিক করে। যেমন, সাইবেরিয়া থেকে বাংলাদেশ পর্যন্ত প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ পথ তারা দলগতভাবে এভাবেই অতিক্রম করে।
প্রকৃতির প্রতিটি কাজেই লুকিয়ে থাকে বিজ্ঞান ও বুদ্ধিমত্তা। পাখিদের ‘V’ আকারে উড়াও তার একটি অনন্য উদাহরণ। শুধু শক্তি সাশ্রয়ই নয়, বরং নেতৃত্ব ভাগাভাগি, দলগত সমন্বয় ও দীর্ঘ যাত্রা সফলভাবে শেষ করার এক বিস্ময়কর কৌশল এটি। আমরা যদি একটু লক্ষ্য করি, এই দলবদ্ধতা থেকে আমাদেরও শেখার অনেক কিছু আছে।
November 06
September 21