November 13
অ্যান্টার্কটিকা—পৃথিবীর সবচেয়ে ঠান্ডা, শুষ্ক ও দুর্গম মহাদেশ। এই বরফে ঢাকা ভূমি যতটা সুন্দর ও রহস্যময়, ততটাই অজানা এর গভীর সমুদ্রের তলদেশ। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা এমন এক চমকপ্রদ ও ভয়ংকর আবিষ্কার করেছেন, যা বৈশ্বিক জলবায়ুর ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন আশঙ্কা তৈরি করেছে। বিজ্ঞানীরা দেখতে পেয়েছেন, অ্যান্টার্কটিকার রস সাগরের গভীর থেকে বিপুল পরিমাণ মিথেন গ্যাস নির্গত হচ্ছে। এই গ্যাস অত্যন্ত ক্ষতিকর—কারণ এটি বায়ুমণ্ডলে প্রথম ২০ বছরে কার্বন ডাই-অক্সাইডের চেয়ে প্রায় ৮০ গুণ বেশি তাপ আটকে রাখে। ফলে, এটি বৈশ্বিক উষ্ণায়ন (Global Warming) বৃদ্ধির জন্য মারাত্মকভাবে দায়ী হতে পারে।
গবেষণায় দেখা গেছে, রস সাগরের অগভীর পানিতে ৪০টির বেশি মিথেন নির্গমনের উৎস চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে আগে মাত্র একটি উৎস জানা ছিল। বিজ্ঞানীদের মতে, এত বিপুল উৎস থেকে মিথেন বেরিয়ে আসা পৃথিবীর জন্য ভয়ংকর বার্তা। কারণ, এই নির্গমনগুলো যদি বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ে, তবে তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার আমাদের ধারণার চেয়ে অনেক দ্রুত হতে পারে। এখনও বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত নন কেন এই নির্গমন হঠাৎ এত বেড়ে গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, জলবায়ু পরিবর্তন ও বরফ গলনের প্রভাবেই সাগরতলের এই ফাটলগুলো সক্রিয় হয়ে উঠছে। আন্তর্জাতিক গবেষক দল এখন উন্নত প্রযুক্তি—যেমন অ্যাকোস্টিক সার্ভে, দূরনিয়ন্ত্রিত জলযান (ROV) এবং ডুবুরি ব্যবহার করে এই নির্গমনগুলো ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।
মিথেন গ্যাস শুধু বায়ুমণ্ডল নয়, বরং সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ভারসাম্যকেও বিপন্ন করে তুলতে পারে। তাই বিজ্ঞানীরা এখন আরও বিস্তারিত গবেষণায় মনোযোগ দিচ্ছেন, যাতে এই নির্গমনের প্রকৃত কারণ, উৎস, ও ভবিষ্যৎ প্রভাব নির্ধারণ করা যায়। অ্যান্টার্কটিকার গভীরে মিথেনের এই হঠাৎ উত্সারণ বিশ্ব উষ্ণায়নের নতুন হুমকি হিসেবে দেখা দিচ্ছে। এটি প্রমাণ করছে যে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব আমরা যতটা ভাবছি, বাস্তবে তার প্রভাব হতে পারে আরও দ্রুত ও ভয়ংকর। এখনই যদি পৃথিবীর কার্বন নির্গমন কমানোর পদক্ষেপ নেওয়া না হয়, তবে অ্যান্টার্কটিকার এই নিঃশব্দ বিপর্যয় মানব সভ্যতার জন্য এক ভয়ানক ভবিষ্যৎ ডেকে আনতে পারে।
November 06
September 21