শেয়ার
করুন

ওয়েবসাইটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশের সংস্কৃতির বৈচিত্র্য

September 23

বাংলাদেশের সংস্কৃতির বৈচিত্র্য

বাংলাদেশের সংস্কৃতি হাজার বছরের ঐতিহ্য ও বৈচিত্র্যে ভরপুর। এখানে গ্রামীণ জীবন, সাহিত্য, সংগীত, শিল্পকলা, উৎসব এবং খাদ্যসংস্কৃতি মিলে গড়ে উঠেছে এক সমৃদ্ধ জাতীয় পরিচয়। বাংলাদেশের সংস্কৃতির মূল ভিত্তি হলো বাংলা ভাষা ও সাহিত্য। এই ভাষার জন্যই ১৯৫২ সালে শহীদরা প্রাণ দিয়েছিলেন, যা আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে বিশ্বব্যাপী পালিত হয়। সাহিত্য জগতে কবি কাজী নজরুল ইসলাম ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান অপরিসীম, যাঁদের কবিতা, গান ও নাটক বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে বিশ্ব দরবারে উজ্জ্বল করেছে।

লোকসংগীত আমাদের সংস্কৃতির একটি প্রাণবন্ত দিক। বাউল, ভাটিয়ালি, ভাওয়াইয়া, পালাগান প্রভৃতি সংগীত গ্রামীণ জীবনের আনন্দ ও দুঃখের বহিঃপ্রকাশ। লালন ফকিরের গান আজও মানুষের অন্তরে দার্শনিক ভাবনা জাগায়। একইসাথে রবীন্দ্রসংগীত ও নজরুলসংগীত আমাদের সংগীতভাণ্ডারকে করেছে সমৃদ্ধ।

শিল্পকলার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ সুপরিচিত। নকশিকাঁথা, জামদানি শাড়ি, মৃৎশিল্প, পাটের কাজ ইত্যাদি শুধু স্থানীয় নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও খ্যাতি অর্জন করেছে। চিত্রশিল্পী জয়নুল আবেদিন এর কাজ বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত। উৎসব বাংলাদেশের সংস্কৃতির প্রাণ। পহেলা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রা, পহেলা ফাল্গুনের বসন্ত উৎসব, ঈদ, দুর্গাপূজা, বুদ্ধ পূর্ণিমা প্রভৃতি উৎসব ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষকে একত্রিত করে।

বাংলাদেশের খাদ্যসংস্কৃতিতেও রয়েছে বৈচিত্র্য। ভাত, মাছ, ডাল, ভর্তা, ইলিশ, পান্তা-ইলিশ, বিভিন্ন ধরনের পিঠা আমাদের খাবারের পরিচিত রূপ। এই খাবারগুলো শুধু স্বাদের জন্যই নয়, বরং ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত। এছাড়াও অতিথি আপ্যায়ন, গ্রামীণ মেলা, নাটক, লোককথা ও নৃত্য বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে আরও রঙিন করে তুলেছে। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের সংস্কৃতি হলো ঐতিহ্য, শিল্প, সাহিত্য ও আনন্দের এক বিশাল ভাণ্ডার। এটি আমাদের জাতীয় পরিচয়কে সমৃদ্ধ করে এবং বিশ্বসভায় গৌরবের আসন এনে দেয়।