October 19
বাংলাদেশ একটি নদীময় ও উপকূলীয় দেশ, যা দক্ষিণ এশিয়ার উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চলে অবস্থিত। দেশের আবহাওয়া ও জলবায়ু মূলত গ্রীষ্মমণ্ডলীয় আর্দ্র (Tropical Monsoon), যার ফলে চারটি মৌসুম স্পষ্টভাবে লক্ষণীয়: গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ ও শীত।
গ্রীষ্মকাল (মার্চ থেকে মে) সাধারণত তীব্র গরম থাকে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা প্রায় ৩০ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছায়। এই সময়ে আর্দ্রতা বেশি থাকে এবং হালকা বৃষ্টিও দেখা দেয়। গ্রীষ্মকালে কৃষিকাজের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া শুরু হয়, তবে চরম তাপের কারণে মানুষের দৈনন্দিন জীবন প্রভাবিত হয়।
বর্ষাকাল (জুন থেকে সেপ্টেম্বর) দেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মৌসুম। দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু ও বঙ্গোপসাগরের কাছ থেকে প্রচুর বৃষ্টি আসে। নদী ও খাল-বিলের পানি বৃদ্ধি পায় এবং দেশের নিম্নাঞ্চলে বন্যার ঝুঁকি তৈরি হয়। এই মৌসুমে কৃষি কার্যক্রম যেমন ধান চাষে বিশেষ গুরুত্ব পায়। তবে, ঘন ঘন বৃষ্টির কারণে ভৌগোলিক অঞ্চলে জলাবদ্ধতা ও যোগাযোগ সমস্যা দেখা দিতে পারে।
শরৎকাল (অক্টোবর থেকে নভেম্বর) বর্ষার পর আসে এবং তুলনামূলকভাবে শান্ত আবহাওয়া থাকে। আর্দ্রতা কমে যায়, তাপমাত্রা নেমে আসে এবং নদীর পানি স্তর ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আসে। এই সময়ে দেশে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য অনেক সুযোগ তৈরি হয়।
শীতকাল (ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি) দেশের তাপমাত্রা সবচেয়ে কম থাকে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলে তাপমাত্রা ১০–১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে যায়। যদিও দক্ষিণাঞ্চলে শীত অপেক্ষাকৃত হালকা থাকে, তবুও মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও কৃষি কার্যক্রম প্রভাবিত হয়।
বাংলাদেশ প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রবণ দেশ। নদী-নালা, উপকূলীয় এলাকা এবং বঙ্গোপসাগরের সংস্পর্শে থাকা কারণে বন্যা, ঘূর্ণিঝড় এবং মোনসুন বৃষ্টির প্রভাব বেশি। সাম্প্রতিক জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ঘূর্ণিঝড় ও বন্যার তীব্রতা বাড়ছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে ঘূর্ণিঝড়ের শক্তি বেড়েছে এবং দেশের নিম্নাঞ্চলগুলোতে বিপদ বাড়ছে। বাংলাদেশের জলবায়ু উষ্ণমণ্ডলীয় ও আর্দ্র, যা কৃষি, জীবনযাত্রা ও প্রাকৃতিক পরিবেশের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। সঠিক পরিকল্পনা, পর্যবেক্ষণ এবং সচেতনতার মাধ্যমে এই প্রাকৃতিক ঝুঁকি মোকাবেলা করা সম্ভব।