August 06
বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে অসংখ্য নারী সাহসিকতা, মানবিকতা ও দেশপ্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন বীর প্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত ডা. সেতারা বেগম। তিনি ছিলেন একজন দক্ষ চিকিৎসক এবং মানবসেবায় নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তিত্ব। মুক্তিযুদ্ধের সময় নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আহত মুক্তিযোদ্ধা, শরণার্থী এবং সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা দিয়ে তিনি ইতিহাসে অনন্য স্থান করে নিয়েছেন।
ডা. সেতারা বেগম ১৯৪৭ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হলে তিনি মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। যুদ্ধ চলাকালে তিনি সীমান্তবর্তী বিভিন্ন শরণার্থী শিবির ও অস্থায়ী হাসপাতালগুলোতে আহত মুক্তিযোদ্ধা ও অসুস্থ মানুষের চিকিৎসা প্রদান করেন। সীমিত চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং প্রতিকূল পরিবেশেও তিনি নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করেন।
মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার তাঁকে "বীর প্রতীক" খেতাবে ভূষিত করে। তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে বীরত্বসূচক খেতাবপ্রাপ্ত অল্পসংখ্যক নারীর একজন। তাঁর এই অবদান শুধু চিকিৎসা পেশার জন্য নয়, মানবতা ও দেশপ্রেমের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে আজও স্মরণীয়।
স্বাধীনতার পরও ডা. সেতারা বেগম চিকিৎসা, শিক্ষা ও গবেষণার মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি দীর্ঘদিন শিক্ষকতা ও চিকিৎসাসেবার সঙ্গে যুক্ত থেকে নতুন প্রজন্মের চিকিৎসকদের অনুপ্রাণিত করেছেন। তাঁর কর্মজীবন মানবসেবা, সততা ও পেশাগত নিষ্ঠার উজ্জ্বল উদাহরণ।
সবশেষে বলা যায়, ডা. সেতারা বেগম বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এক অনন্য ব্যক্তিত্ব। তাঁর সাহস, মানবিকতা এবং দেশপ্রেম নতুন প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয়। স্বাধীনতা সংগ্রামে তাঁর অবদান বাংলাদেশের ইতিহাসে চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হবে।