শেয়ার
করুন

ওয়েবসাইটি শেয়ার করুন

বিশ্বকাপ ফুটবলে অংশ নিয়ে দলগুলো কত আয় করে

July 16

বিশ্বকাপ ফুটবলে অংশ নিয়ে দলগুলো কত আয় করে

বিশ্বকাপ ফুটবলের ইতিহাসে ২০২৬ আসর শুধু দলসংখ্যা বা আয়োজনের দিক থেকেই নয়, পুরস্কার তহবিল ও আর্থিক পরিসরের দিক থেকেও নতুন ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে। এবারের বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন দল ট্রফির পাশাপাশি পাবে ৫ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার, যা ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার প্রাপ্ত অর্থের তুলনায় ৮০ লাখ ডলার বেশি। ফিফা এবার বিশ্বকাপের জন্য মোট ৮৭ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলারের পুরস্কার তহবিল ঘোষণা করেছে। ২০২২ সালের বিশ্বকাপে এই তহবিল ছিল ৪৪ কোটি ডলার, অর্থাৎ মাত্র চার বছরের ব্যবধানে পুরস্কারের পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। এটি বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ প্রাইজ মানি।

বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া প্রতিটি দলই এবার আর্থিক পুরস্কার পাবে। চ্যাম্পিয়ন দল পাবে ৫ কোটি ১০ লাখ ডলার, রানার্সআপ ৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার, তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দল ৩ কোটি ডলার এবং চতুর্থ স্থান অধিকারী দল ২ কোটি ৮০ লাখ ডলার।

এছাড়া কোয়ার্টার ফাইনালে বিদায় নেওয়া প্রতিটি দল পাবে ২ কোটি ডলার। শেষ ষোলোতে থাকা দলগুলোর জন্য বরাদ্দ ১ কোটি ৬০ লাখ ডলার, গ্রুপ পর্ব অতিক্রম করে ১৭ থেকে ৩২তম স্থানে থাকা দলগুলো পাবে ১ কোটি ২০ লাখ ডলার, আর ৩৩ থেকে ৪৮তম স্থানে থাকা প্রতিটি দল পাবে ১ কোটি ডলার।
এর বাইরে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি দলকে ১ কোটি ডলার অংশগ্রহণ ফি এবং ২৫ লাখ ডলার প্রস্তুতি ভাতা দেওয়া হবে। ফলে কোনো দলই ১ কোটি ২৫ লাখ ডলারের কম পাবে না।

২০২৬ বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল অংশ নিচ্ছে। দলসংখ্যা বাড়ায় ম্যাচের সংখ্যাও বেড়েছে। এর ফলে টিকিট বিক্রি, সম্প্রচার স্বত্ব, স্পনসরশিপ এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রম থেকে ফিফার আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই অতিরিক্ত আয়ের একটি অংশ অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্যে পুরস্কার হিসেবে বিতরণ করা হচ্ছে। ফিফার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে সংস্থাটির মোট আয় প্রায় ১৩ বিলিয়ন (১,৩০০ কোটি) মার্কিন ডলার।
এই আয়ের প্রধান উৎসগুলো হলো—
টিভি সম্প্রচার স্বত্ব: ৪২৬ কোটি ডলার
টিকিট বিক্রি: ৩০০ কোটি ডলার
স্পনসরশিপ ও লাইসেন্সিং: ৩২০ কোটি ডলার
এছাড়া ডিজিটাল মিডিয়া, বিপণন এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক খাত থেকেও উল্লেখযোগ্য আয় হচ্ছে।

এবার ফিফা প্রথমবারের মতো বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, যেমন TikTok ও YouTube-এর মাধ্যমে ম্যাচের নির্বাচিত অংশ সম্প্রচার ও মনিটাইজেশনের উদ্যোগ নিয়েছে, যা নতুন আয়ের পথ তৈরি করেছে।
২০২৬ বিশ্বকাপে ফিফা Dynamic Pricing পদ্ধতি চালু করেছে। অর্থাৎ, টিকিটের চাহিদা যত বেশি হবে, দামও তত বাড়বে। বিশেষ করে ফাইনাল ম্যাচের টিকিটের মূল্য ১১ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত পৌঁছেছে। তুলনামূলকভাবে, ২০২২ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালের প্রাথমিক টিকিট মূল্য ছিল প্রায় ১,৬০০ ডলার।

ফিফা একটি অলাভজনক সংস্থা হিসেবে জানিয়েছে, বিশ্বকাপ থেকে অর্জিত আয়ের বড় অংশ ফুটবলের উন্নয়নে ব্যয় করা হবে। প্রায় ১১.৭ বিলিয়ন ডলার বিশ্বব্যাপী ফুটবল অবকাঠামো, যুব উন্নয়ন, নারী ফুটবল এবং সদস্য দেশগুলোর বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে পুনর্বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ শুধু ফুটবল প্রতিযোগিতা নয়, এটি বৈশ্বিক ক্রীড়া অর্থনীতিরও একটি বড় উদাহরণ। রেকর্ড পরিমাণ পুরস্কার, অংশগ্রহণকারী প্রতিটি দলের জন্য আর্থিক প্রণোদনা, বাড়তি সম্প্রচার আয়, ডিজিটাল বাণিজ্য এবং নতুন টিকিটিং ব্যবস্থার মাধ্যমে এবারের বিশ্বকাপ ফিফার ইতিহাসে সবচেয়ে লাভজনক ও অর্থনৈতিকভাবে সবচেয়ে বড় আসরে পরিণত হয়েছে। মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি অর্থনৈতিক দিক থেকেও এই বিশ্বকাপ ভবিষ্যতের ক্রীড়া আয়োজনের জন্য নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে।