March 17
বাংলাদেশের জাতীয় জীবনে Independence Day বা স্বাধীনতা দিবস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও গৌরবময় একটি দিন। প্রতি বছর ২৬ মার্চ তারিখে এ দিবসটি জাতীয়ভাবে উদযাপিত হয়। ১৯৭১ সালের এই দিনে বাঙালি জাতি দীর্ঘদিনের শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের সূচনা করে। ফলে ২৬ মার্চ বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত।
স্বাধীনতা দিবসের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম ও আন্দোলনের ইতিহাস। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্ত হয়ে পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠনের পর পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালি জনগণ ধীরে ধীরে বৈষম্য ও বঞ্চনার শিকার হতে থাকে। ভাষা, সংস্কৃতি, অর্থনীতি ও রাজনীতির ক্ষেত্রে পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠীর বৈষম্যমূলক নীতির বিরুদ্ধে বাঙালির প্রতিবাদ ক্রমে তীব্র হয়ে ওঠে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন বাঙালির জাতীয় চেতনা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং পরবর্তীকালে স্বাধীনতা আন্দোলনের ভিত্তি শক্তিশালী করে।
১৯৬৬ সালে শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষিত ছয় দফা দাবি পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসনের দাবিকে শক্তিশালী করে। এর ধারাবাহিকতায় ১৯৬৯ সালের গণ অভভুথান পাকিস্তানি শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে বাঙালির গণআন্দোলনকে নতুন গতি দেয়।
১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও পাকিস্তানের সামরিক শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তরে গড়িমসি করে। পরিস্থিতি ক্রমে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ শেখ মুজিবুর রহমান ঢাকার রেসকোর্স ময়দান-এ ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেন, যা বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামের দিকনির্দেশনা হিসেবে বিবেচিত হয়। পরবর্তীতে ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনী 'অপারেশন সার্চলাইট' নামে গণহত্যামূলক অভিযান শুরু করে। এর প্রেক্ষিতে ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এরপর শুরু হয় দীর্ঘ নয় মাসের Bangladesh Liberation War, যেখানে বাঙালি মুক্তিযোদ্ধারা অসীম সাহস ও ত্যাগের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জনের জন্য লড়াই করেন।
অবশেষে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনী যৌথ বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করলে বাংলাদেশ স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। সেই কারণে ২৬ মার্চ স্বাধীনতার সূচনা দিবস হিসেবে পালিত হয় এবং ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস হিসেবে উদযাপিত হয়। স্বাধীনতা দিবস বাংলাদেশের জাতীয় চেতনা, আত্মমর্যাদা ও দেশপ্রেমের প্রতীক। এ দিন সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কুচকাওয়াজ এবং শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে দিবসটি উদযাপন করা হয়। স্বাধীনতা দিবস শুধু একটি স্মরণীয় দিন নয়; এটি বাঙালি জাতির স্বাধীনতা সংগ্রাম, আত্মত্যাগ এবং জাতীয় পরিচয়ের প্রতীক।
April 01
February 17
February 09
February 02