March 10
ভাষা মানুষের ভাব প্রকাশের প্রধান মাধ্যম। এই ভাষা গঠনের মূল উপাদান হলো ধ্বনি। বাংলা ব্যাকরণে ধ্বনি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, কারণ ভাষার প্রতিটি শব্দই মূলত ধ্বনির সমন্বয়ে গঠিত। ভাষাতত্ত্বের দৃষ্টিতে ধ্বনি হলো মানুষের কণ্ঠযন্ত্র থেকে উচ্চারিত এমন একটি ক্ষুদ্রতম শ্রবণযোগ্য একক, যা ভাষার অর্থবোধক গঠন তৈরিতে ভূমিকা রাখে।
বাংলা ভাষায় ধ্বনি প্রধানত দুই ধরনের: স্বরধ্বনি ও ব্যঞ্জনধ্বনি। যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় বায়ুপ্রবাহ মুখগহ্বর দিয়ে বাধাহীনভাবে বের হয়ে আসে তাকে স্বরধ্বনি বলা হয়। যেমন: অ, আ, ই, ঈ, উ, ঊ, এ, ঐ, ও, ঔ। অন্যদিকে যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় বায়ুপ্রবাহ কোনো না কোনো স্থানে বাধাপ্রাপ্ত হয় তাকে ব্যঞ্জনধ্বনি বলা হয়। যেমন: ক, খ, গ, ঘ, চ, ছ ইত্যাদি।
ধ্বনির সঠিক উচ্চারণ ভাষার শুদ্ধতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই শব্দ ভিন্নভাবে উচ্চারিত হলে অর্থের পরিবর্তন ঘটতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, “কাল” এবং “কুল” শব্দ দুটি ভিন্ন ধ্বনির কারণে ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে। তাই ধ্বনির যথাযথ প্রয়োগ ভাষা ব্যবহারে স্পষ্টতা ও শুদ্ধতা নিশ্চিত করে।
ধ্বনিবিজ্ঞান (Phonetics) ভাষাবিজ্ঞানের এমন একটি শাখা, যেখানে ধ্বনির উৎপত্তি, প্রকৃতি ও উচ্চারণ পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করা হয়। বাংলা ভাষার ধ্বনিগত বৈশিষ্ট্য বোঝার মাধ্যমে ভাষার শুদ্ধ উচ্চারণ, বানান এবং শব্দ গঠনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়। সার্বিকভাবে বলা যায়, ধ্বনি হলো ভাষার মৌলিক ভিত্তি। ধ্বনি ছাড়া শব্দ, বাক্য বা ভাষার অস্তিত্ব কল্পনা করা যায় না। তাই বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ বোঝার ক্ষেত্রে ধ্বনি সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান অর্জন অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
February 16
January 25