April 15
বাংলা ব্যাকরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও মৌলিক অংশ হলো ধাতু। ভাষার সঠিক ব্যবহার এবং ক্রিয়া বোঝার জন্য ধাতু সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা জরুরি।
ধাতু কী
ধাতু হলো সেই মূল অংশ যার সঙ্গে বিভিন্ন প্রত্যয় যোগ হয়ে ক্রিয়া পদ গঠিত হয়। সহজভাবে বলা যায় ধাতুই ক্রিয়ার ভিত্তি।
উদাহরণ: খা থেকে খাচ্ছে, যা থেকে যাই, কর থেকে করল
এখানে খা যা কর হলো ধাতু এবং এগুলোর সঙ্গে যোগ হওয়া অংশগুলো ক্রিয়ার রূপ তৈরি করেছে।
ধাতুর বৈশিষ্ট্য:
ধাতু সাধারণত একা পূর্ণ অর্থ প্রকাশ করে না।
ধাতুর সঙ্গে প্রত্যয় যোগ হলে অর্থ সম্পূর্ণ হয়।
সব ধরনের ক্রিয়ার মূলে ধাতু থাকে।
ধাতুর প্রকারভেদ: বাংলা ব্যাকরণে ধাতুকে সাধারণত দুই ভাগে ভাগ করা হয়।
মৌলিক ধাতু: যেসব ধাতু অন্য কোনো শব্দ থেকে তৈরি নয় সেগুলোকে মৌলিক ধাতু বলা হয়।
উদাহরণ: খা, যা, কর, দে। এই ধাতুগুলো ভাষার প্রাথমিক ভিত্তি হিসেবে কাজ করে
সাধিত ধাতু: যেসব ধাতু অন্য শব্দ বা ধাতু থেকে তৈরি হয় সেগুলোকে সাধিত ধাতু বলা হয়
উদাহরণ: খেলা থেকে খেলানো, হাস থেকে হাসানো, লেখা থেকে লেখানো।
এখানে মূল শব্দের সঙ্গে অতিরিক্ত অংশ যুক্ত হয়ে নতুন অর্থ তৈরি হয়েছে
ধাতু থেকে ক্রিয়া গঠন: ধাতুর সঙ্গে বিভিন্ন প্রত্যয় যুক্ত হয়ে ভিন্ন ভিন্ন ক্রিয়া তৈরি হয়। একই ধাতু থেকে কাল ও পুরুষ ভেদে বিভিন্ন রূপ দেখা যায়।
উদাহরণ: কর থেকে করছে করল করবে। খা থেকে খাচ্ছে খেল খাবে। লিখ থেকে লিখছে লিখল লিখবে, ইত্যাদি।
ধাতুর গুরুত্ব:
ধাতু ছাড়া কোনো ক্রিয়া গঠন সম্ভব নয়
সঠিক বাক্য গঠনের জন্য ধাতু জানা অত্যন্ত জরুরি
ভাষার গঠন ও বিশ্লেষণে ধাতু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় ধাতু থেকে নিয়মিত প্রশ্ন আসে
অনেকে ধাতু ও ক্রিয়াকে একই মনে করে যা ভুল। যেমন: খাচ্ছে শব্দের ধাতু খা খাচ্ছে নয়। অনেকে ভুলভাবে ধাতু নির্ধারণ করে যা অর্থ বুঝতে সমস্যা তৈরি করে। ধাতু বাংলা ব্যাকরণের একটি ভিত্তিমূলক উপাদান। এটি ভালোভাবে আয়ত্ত করতে পারলে ক্রিয়া গঠন এবং বাক্য বিশ্লেষণ অনেক সহজ হয়ে যায়। তাই ভাষার দক্ষতা বাড়াতে ধাতুর সঠিক ধারণা থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।