February 23
এনজাইম (Enzyme) হলো প্রোটিনজাত জৈব অনুঘটক, যা জীবদেহে সংঘটিত রাসায়নিক বিক্রিয়াগুলোকে দ্রুততর করে। কোষের অভ্যন্তরে প্রতিনিয়ত অসংখ্য বিপাকীয় (metabolic) বিক্রিয়া ঘটে। এনজাইম না থাকলে এই বিক্রিয়াগুলো এত ধীরে ঘটত যে জীবনধারণই সম্ভব হতো না।
এনজাইমের প্রকৃতি:
অধিকাংশ এনজাইম প্রোটিন দ্বারা গঠিত, তবে কিছু RNA অণুও (রাইবোজাইম) এনজাইমের মতো কাজ করতে পারে। এনজাইম অত্যন্ত নির্দিষ্ট (specific), অর্থাৎ একটি নির্দিষ্ট এনজাইম সাধারণত একটি নির্দিষ্ট সাবস্ট্রেটের (substrate) উপর কাজ করে।
এনজাইমের গঠন ও কার্যপ্রণালী:
এনজাইমের একটি বিশেষ অংশ থাকে, যাকে সক্রিয় স্থান (Active Site) বলা হয়। এখানে সাবস্ট্রেট যুক্ত হয়ে এনজাইম-সাবস্ট্রেট কমপ্লেক্স তৈরি করে। পরে রাসায়নিক বিক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে উৎপাদ (product) তৈরি হয় এবং এনজাইম পুনরায় মুক্ত হয়ে যায়।
এনজাইমের কার্যপ্রণালী ব্যাখ্যা করতে দুটি গুরুত্বপূর্ণ মডেল রয়েছে:
লক-এন্ড-কী মডেল (Lock and Key Model)
ইনডিউসড ফিট মডেল (Induced Fit Model)
এনজাইমের বৈশিষ্ট্য:
অত্যন্ত নির্দিষ্ট
অল্প পরিমাণেই কার্যকর
বিক্রিয়া শেষে অপরিবর্তিত থাকে
তাপমাত্রা ও pH দ্বারা প্রভাবিত
এনজাইমের উপর প্রভাবকারী উপাদান:
১. তাপমাত্রা: নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় এনজাইম সর্বাধিক কার্যকর (optimum temperature)। অতিরিক্ত তাপে ডিন্যাচারেশন ঘটে।
২. pH: প্রতিটি এনজাইমের নির্দিষ্ট optimum pH থাকে।
৩. সাবস্ট্রেটের ঘনত্ব
৪. ইনহিবিটার (Inhibitor)
গুরুত্ব:
হজম প্রক্রিয়া (যেমন অ্যামাইলেজ, প্রোটিয়েজ)
শ্বসন ও শক্তি উৎপাদন
DNA প্রতিলিপি (replication)
শিল্পক্ষেত্রে (খাদ্য, ঔষধ, ডিটারজেন্ট শিল্প)
February 09