January 21
বাংলাদেশ ভৌগোলিকভাবে একটি ছোট কিন্তু বৈচিত্র্যপূর্ণ দেশ। দেশের কিছু অঞ্চল ভৌগোলিক অবস্থান, যোগাযোগব্যবস্থা, অর্থনৈতিক পশ্চাৎপদতা ও নিরাপত্তাজনিত কারণে প্রান্তীয় এলাকা হিসেবে পরিচিত। আবার যেসব এলাকা সরাসরি প্রতিবেশী দেশ ভারতের ও মিয়ানমারের সঙ্গে সংযুক্ত, সেগুলোকে বলা হয় সীমান্তবর্তী এলাকা। এই দুই ধরনের অঞ্চল বাংলাদেশের সামাজিক-অর্থনৈতিক উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
প্রান্তীয় এলাকা বলতে সাধারণত সেইসব অঞ্চলকে বোঝায় যেগুলো রাজধানী বা বড় শহর থেকে দূরে অবস্থিত, যোগাযোগ ও অবকাঠামোগত সুবিধা কম এবং যেখানে শিক্ষা-স্বাস্থ্য-অর্থনৈতিক সুযোগ তুলনামূলকভাবে সীমিত। বাংলাদেশের হাওর অঞ্চল (সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ), চর অঞ্চল (ভোলা, কুড়িগ্রাম), পাহাড়ি অঞ্চল (বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি) প্রান্তীয় এলাকার উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।
সীমান্তবর্তী এলাকা হলো যেসব জেলা বা অঞ্চল বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সীমানা বরাবর অবস্থিত। বাংলাদেশের মোট স্থলসীমান্তের অধিকাংশই ভারতের সঙ্গে এবং একটি অংশ মিয়ানমারের সঙ্গে। সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর মধ্যে রয়েছে—লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, দিনাজপুর, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, যশোর, সাতক্ষীরা, কক্সবাজার ও বান্দরবান।
এই অঞ্চলগুলো দেশের জাতীয় নিরাপত্তা, সীমান্ত বাণিজ্য, চোরাচালান ও অবৈধ অনুপ্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, এবং প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি এখানকার জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য। প্রান্তীয় ও সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে দারিদ্র্য, প্রাকৃতিক দুর্যোগ (বন্যা, নদীভাঙন, পাহাড়ধস), শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতি এবং কর্মসংস্থানের সীমাবদ্ধতা একটি বড় সমস্যা। এজন্য সরকার বিভিন্ন বিশেষ প্রকল্প, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ও অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণ করেছে।
February 17
February 09
February 02
January 08