September 28
বাংলাদেশের আধুনিক সাহিত্য ও চিন্তাধারার জগতে আহমদ ছফা একটি ব্যতিক্রমী নাম। তিনি জন্মগ্রহণ করেন ১৯৪৩ সালের ৩০ জুন চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলায়। শৈশব থেকেই গ্রামীণ পরিবেশ তাঁর বেড়ে ওঠায় প্রভাব ফেলেছিল। পরবর্তীতে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা সাহিত্য অধ্যয়ন করেন এবং সাহিত্যজগতে প্রবেশ করেন এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে।
আহমদ ছফার লেখালেখিতে সবচেয়ে বেশি প্রতিফলিত হয়েছে সমাজ, রাজনীতি, শিক্ষা এবং মুক্তচিন্তার বিষয়। তাঁর উপন্যাস অলাতচক্র মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ের এক অনন্য দলিল, যেখানে যুদ্ধের ভয়াবহতা, বুদ্ধিজীবী মহলের টানাপোড়েন এবং মানবিক সম্পর্কের জটিলতা ফুটে উঠেছে। অন্যদিকে গাবী বৃত্তান্ত একটি রূপকধর্মী উপন্যাস, যেখানে গরুর প্রতীক ব্যবহার করে তিনি সমাজ ও রাষ্ট্রের অসঙ্গতি উন্মোচন করেছেন। কথাসাহিত্যের পাশাপাশি প্রবন্ধ রচনায়ও তিনি ছিলেন তীক্ষ্ণ ও নির্ভীক। বাংলাদেশের জাতিসত্তার সন্ধান এবং বাংলাদেশের সংস্কৃতি তাঁর এমন দুটি প্রবন্ধগ্রন্থ, যেখানে তিনি বাঙালির আত্মপরিচয় ও সাংস্কৃতিক ভিত্তি নিয়ে গভীর বিশ্লেষণ করেছেন।
তিনি কখনও প্রচলিত রীতি বা ক্ষমতার সঙ্গে আপস করেননি। তাঁর স্পষ্টভাষী মনোভাব তাঁকে যেমন বিতর্কিত করেছে, তেমনি সম্মানিতও করেছে। আহমদ ছফার লেখার মূল শক্তি ছিল প্রশ্ন তোলা এবং পাঠককে স্বাধীনভাবে ভাবতে বাধ্য করা। এজন্য তাঁকে বাংলাদেশের সাহিত্য-সংস্কৃতির জগতে মুক্তচিন্তার প্রতীক হিসেবে গণ্য করা হয়।
২০০১ সালের ২৮ জুলাই ঢাকায় আহমদ ছফার মৃত্যু ঘটে। তবে তাঁর সাহিত্যকর্ম আজও পাঠককে আলোড়িত করে এবং স্বাধীনভাবে চিন্তা করার প্রেরণা জোগায়। বলা যায়, আহমদ ছফা প্রমাণ করে গেছেন যে সাহিত্য কেবল বিনোদনের উপকরণ নয়, বরং সত্য প্রকাশের সাহসী হাতিয়ার।