শেয়ার
করুন

ওয়েবসাইটি শেয়ার করুন

জগদীশ চন্দ্র বসু: এক অসাধারণ বিজ্ঞানী

September 23

জগদীশ চন্দ্র বসু: এক অসাধারণ বিজ্ঞানী

ভারতীয় উপমহাদেশের বিজ্ঞান ইতিহাসে জগদীশ চন্দ্র বসু এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তিনি শুধু একজন বিজ্ঞানী নন, একইসাথে দার্শনিক, সাহিত্যিক এবং সৃজনশীল চিন্তাবিদও ছিলেন। জগদীশ চন্দ্র বসুর জন্ম ১৮৫৮ সালের ৩০ নভেম্বর বাংলাদেশের ময়মনসিংহ জেলার বিক্রমপুরে। তাঁর পিতা ভগবান চন্দ্র বসু ছিলেন একজন সমাজ সংস্কারক। শৈশব থেকেই তিনি বিজ্ঞান ও প্রকৃতির প্রতি আকৃষ্ট হন। তাঁর প্রাথমিক শিক্ষা বেঙ্গল অ্যাকাডেমিতে এবং পরবর্তীতে কলকাতায়। উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি ইংল্যান্ডে যান এবং কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ন্যাচারাল সায়েন্সে ডিগ্রি অর্জন করেন।
দেশে ফিরে প্রেসিডেন্সি কলেজে অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন।

বৈজ্ঞানিক অবদান-
১. রেডিও তরঙ্গের পরীক্ষা

  • জগদীশ চন্দ্র বসু প্রমাণ করেছিলেন যে বেতার তরঙ্গ (Radio Waves) ব্যবহার করে যোগাযোগ করা সম্ভব।
  • তিনিই প্রথম ক্ষুদ্রাকৃতির রেডিও ট্রান্সমিটার তৈরি করেছিলেন।
২. উদ্ভিদের জীবন অনুভূতি
  • তিনি উদ্ভিদের মধ্যে জীবন ও সাড়া দেওয়ার ক্ষমতা আবিষ্কার করেন।
  • উদ্ভিদের স্পন্দন মাপার জন্য তিনি ক্রেসকোগ্রাফ (Crescograph) নামে যন্ত্র উদ্ভাবন করেন।
৩. অগ্রদূত বিজ্ঞানী
  • তাঁর আবিষ্কার পরবর্তীতে বেতার যোগাযোগ ও বেতার বিজ্ঞানের ভিত্তি গড়ে তোলে।
  • তাঁকে আধুনিক বেতার বিজ্ঞানের অন্যতম পথিকৃৎ বলা হয়।
তিনি বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান কল্পকাহিনী লিখেছিলেন। তাঁর লেখা "নিরুদ্দেশের কাহিনী" (১৮৯৬) বাংলার প্রথম দিককার বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী হিসেবে পরিচিত। জগদীশ চন্দ্র বসুকে ব্রিটিশ সরকার স্যার উপাধি প্রদান করে (১৯১৭ সালে)। কলকাতায় তাঁর প্রতিষ্ঠিত "বোস ইনস্টিটিউট" এখনো বিশ্বমানের গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে। ১৯৩৭ সালের ২৩ নভেম্বর কলকাতায় জগদীশ চন্দ্র বসুর মৃত্যু হয়। জগদীশ চন্দ্র বসু শুধু বিজ্ঞানেই নয়, সাহিত্য ও চিন্তাধারার দুনিয়াতেও অসাধারণ অবদান রেখেছেন। প্রকৃতির রহস্য উন্মোচনে তাঁর অবদান বিশ্বব্যাপী আজও সম্মানের সাথে স্মরণ করা হয়।