January 18
ষষ্ঠ শতকে, গুপ্ত সাম্রাজ্য উত্তর ভারতে একটি বৃহৎ ও শক্তিশালী সাম্রাজ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত ছিল, কিন্তু এর পরেই এটি বিভিন্ন অঞ্চলে ভাগ হয়ে যায়। এই রাজ্যগুলির মধ্যে মগধ (বিহার), মালব (মধ্য প্রদেশ), মৌখরী রাজ্য (উত্তর প্রদেশ) এবং পুষ্যভূতি রাজ্য (পাঞ্জাব) উল্লেখযোগ্য ছিল। শশাঙ্ক, যিনি মগধের গুপ্ত সম্রাট মহাসেন গুপ্তের একজন সীমান্তবর্তী মহাসামন্ত ছিলেন, তিনি বাংলায় ক্ষমতা লাভ করে গৌড়ে তার রাজধানী স্থাপন করেন। ৬১৯ খ্রিষ্টাব্দে, শশাঙ্ক উড়িষ্যা আক্রমণ করে শৈলোদ্ভব বংশের রাজাকে পরাজিত করে উড়িষ্যা দখল করেন।
এ সময়ে উত্তর ভারতে সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার জন্য বিভিন্ন রাজ্যের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা চলছিল। মালবের রাজা দেবগুপ্ত মৌখরী রাজা গ্রহবর্মণকে পরাজিত করে কনৌজ দখল করেন, তবে পুষ্যভূতির রাজা রাজ্যবর্ধন তাকে পরাস্ত করে কনৌজের দখল পুনরুদ্ধার করেন। শশাঙ্ক কনৌজ আক্রমণ করে রাজ্যবর্ধনকে পরাজিত ও নিহত করে শহরটি দখল করেন। রাজ্যবর্ধনের মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে তার ভাই হর্ষবর্ধন একটি শক্তিশালী বাহিনী গঠন করে এবং শশাঙ্কের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন। দীর্ঘ ছয় বছর রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের পর হর্ষবর্ধন শশাঙ্ককে পরাজিত করেন এবং বাংলার গৌড় দখল করে নেন। এর মাধ্যমে গৌড় সাম্রাজ্যের পতন ঘটে এবং বাংলায় নতুন শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।