September 30
ওরাল রিহাইড্রেশন স্যালাইন (ওরস্যালাইন) চিকিৎসাবিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার, যা কলেরা ও ডায়রিয়ার মতো রোগে শরীরের পানি ও লবণের ঘাটতি পূরণে ব্যবহৃত হয়। এর ফলে বিশ্বজুড়ে লক্ষাধিক শিশুর জীবন রক্ষা হয়েছে। প্রথমদিকে স্যালাইন ইনজেকশন হিসেবে ব্যবহার করা হতো এবং সহজলভ্য ছিল না। বাংলাদেশি বিজ্ঞানী ডা. রফিকুল ইসলাম ১৯৭১ সালে পশ্চিমবঙ্গের শরণার্থী শিবিরে কলেরা ছড়িয়ে পড়ার সময় প্রথম ওরাল স্যালাইনের উদ্ভাবন করেন। এতে আশানুরূপ ফল পান এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশ স্বাধীন হলে এই গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারের জন্য তাঁকে স্বীকৃতি দেয় বাংলাদেশ সরকার এবং আন্তর্জাতিক ভাবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ১৯৮০ সালে তাঁকে এই স্যালাইনের উদ্ভাবক হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এনজিও ব্র্যাক এই স্যালাইনের ব্যবহার সারা দেশে ছড়িয়ে দেয়। বর্তমানে স্যালাইনে সোডিয়াম ক্লোরাইড, পটাশিয়াম ক্লোরাইড, গ্লুকোজ এবং ট্রাইসোডিয়াম সাইট্রেট থাকে, যা শরীরের পানি ও লবণের ভারসাম্য বজায় রাখে। একটা পাত্রে আধা লিটার (স্যালাইনের প্যাকেটে লেখা থাকে ‘২ পোয়া’) বা ৫০০ মিলিলিটার বিশুদ্ধ পানি নিয়ে তাতে এক প্যাকেটে থাকা পুরো স্যালাইন ভালোভাবে মেশাতে হবে। তবে হাতের কাছে কেনা স্যালাইন না থাকলে এক মুঠো চিনি ও এক চিমটি লবণ ৫০০ মিলিলিটার পানিতে মিশিয়ে ঘরে সহজেই স্যালাইন তৈরি করা যায়।